৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeসাহিত্যনজরুল বর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 




নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নজরুল বর্ষ’ স্মরণীয় করে রাখতে সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ পেরিয়ে এ প্রতিযোগিতা গড়াবে জাতীয় পর্যায়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়। নজরুল বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় প্রতিযোগিতার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন। সভায় জানানো হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসতে প্রতিযোগিতাটি পাঁচটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হলো নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নাটক ও নৃত্য। আগামী ৩১ আগস্ট সারাদেশের সঙ্গে একযোগে চুয়াডাঙ্গার জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ২ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। স্কুল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা পরবর্তী ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলবে ১৩ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। আগামী ১ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এরপর জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা অংশ নেবেন বিভাগীয় পর্যায়ে। বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলবে ১৩ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। সবশেষে দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় জানানো হয়, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করা এবং জাতীয় সংস্কৃতির চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ করা। তিনি বলেন, আমরা চাই গ্রাম পর্যায় থেকে প্রতিভা উঠে আসুক। ভালো প্ল্যাটফর্মের অভাবে অনেক প্রতিভা গ্রামেই থেকে যায়। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আমরা সেই প্রতিভাগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে চাই। প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তা ছড়িয়ে দিতে চাই সমগ্র দেশজুড়ে। জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শনের মধ্যে দ্রোহের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার শক্তিশালী বার্তা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিযোগিতার পাঁচটি বিভাগই নজরুলের সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নজরুলসংগীতের সুর, কবিতার আবৃত্তিতে দ্রোহ ও মানবতার উচ্চারণ, চিত্রকলায় সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ, নাটকে জীবন ও সমাজের নানা দিক এবং নৃত্যে ছন্দ ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম কবির সৃষ্টিকে নতুন করে জানার সুযোগ পাবে। এ আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণদের মধ্যে নজরুলচর্চার আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক উজ জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহীদুল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মানিক আকবরসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নজরুল বর্ষকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার এ আয়োজন তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলের মঞ্চ থেকে উঠে আসবে নতুন প্রতিভা, আর তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে ও সৃষ্টিতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে জাতীয় কবির দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with