৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
spot_img
HomeUncategorizedচুয়াডাঙ্গা নীলার মোড়ে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর

চুয়াডাঙ্গা নীলার মোড়ে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে নিজ মুদিদোকান ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করে ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প করে দিতে হবে, মোটরসাইকেল নিয়ে নেয়া হবে এবং প্রাণে মেরে ফেলা হবে এমন হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কাওছার আলী (৩২)। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সুমিরদিয়া এলাকার তহিদুল ইসলামের ছেলে তপু (২৫), নুরুল হুদার ছেলে তিতাস (২৫), মৃত কদরের ছেলে সজল (২২), আছের আলীর ছেলে মুন্না (১৯), কেদারগঞ্জ নতুন বাজার এলাকার ইকবাল (২২), সুমিরদিয়া এলাকার সুরাপ আলীর ছেলে সজীব (২৪) এবং নীলার মোড় এলাকার কুড়নের ছেলে আশা (২৩)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাওছার আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে তার একটি মুদিদোকান ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা রয়েছে। এজাহারে কাওছার অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিতাস ও আশা তার ছোট ভাই সুমনের কাছে ইয়াবা সেবনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সুমন তাকে জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর গত ২০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তপু মুঠোফোনে কাওছারকে ফোন করে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন এবং রাতে টাকা দেয়ার কথা বলেন। কাওছার টাকা নেই জানালে একটি মুঠোফোন রেখে পাঁচ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। তাতেও তিনি রাজি হননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তপু, তিতাস ও সজল তার দোকানে গিয়ে ক্যাশে কত টাকা আছে জানতে চান। কাওছার তাদের জানান, ড্রয়ারে এক হাজার টাকার কম রয়েছে। তখন ড্রয়ারে থাকা ৪০০ টাকা সজল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরও টাকা না দেয়ায় তাকে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান। এজাহার অনুযায়ী, একই দিন সন্ধ্যায় আশা টাকা তুলতে কাওছারের দোকানে আসেন। পরে রাত ১১টার দিকে তপু আবার ফোন করে টাকা দাবি করেন। কাওছার টাকা নেই জানালে তাদের মধ্যে কথোপকথন হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওছার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে তার দোকানে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি চড়, থাপ্পড়, কিল ও ঘুষি মারতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাওছারের অভিযোগ, পরে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে সুমিরদিয়া নীলার মোড় থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের সহযোগিতায় গেট খোলা হয়। নৈশপ্রহরীর সামনে তাকে আবারও মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ব্যবসার ১৪ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাওছার। এরপর তাকে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প করে দিতে হবে, তা না হলে মোটরসাইকেল নিয়ে নেয়া হবে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হয় বলে তার অভিযোগ। কাওছার জানান, রাত আনুমানিক ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with