নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাঠজুড়ে এখন সোনালি আঁশের ব্যস্ততা। কোথাও পাট কাটছেন কৃষকেরা, কোথাও আঁটি বেঁধে নিয়ে যাচ্ছেন জাগ দেয়ার জন্য। আবার কোথাও পানিতে পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকেরা। কয়েক দিনের মধ্যেই সবুজ পাটগাছের বদলে মাঠের দৃশ্যপট বদলে গেছে। শুরু হয়েছে পাট কাটার কর্মযজ্ঞ। চুয়াডাঙ্গায় এ বছর পাটের ফলন ও বাজারদর দুটিই ভালো থাকায় খুশি কৃষকেরা। তার ওপর অতিবৃষ্টিতে নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি জমায় পাট জাগ দেয়া নিয়েও তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটে পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে পাট চাষে লাভের আশা করছেন জেলার কৃষকেরা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও জাগ দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কাটা পাট কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন জলাশয়ের দিকে, আবার কেউ পানিতে পাটের আঁটি ডুবিয়ে জাগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোথাও আবার পচে যাওয়া পাটের আঁটি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের চাহিদা ও বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটগাছ হয়েছে লম্বা ও মোটা। ফলে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে ৪৩৫ হেক্টর। এবার জেলায় প্রায় ২৫ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ফলন ও দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। আগামী মৌসুমেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এর সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। কৃষকেরা জানিয়েছেন, সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে পাটের বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় বাড়তি খরচ অনেকটাই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে। পাট চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের বড় একটি দুশ্চিন্তা থাকে পাট জাগ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া নিয়ে। তবে এ বছর সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে জেলার নদী, খাল, বিল, ডোবা ও বিভিন্ন জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। ফলে কাটা পাট জাগ দিতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।
সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের কৃষক শাহীন আলী এবার এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। দামে কোনো সমস্যা নেই। পাটের আবাদে খুশি কৃষক। পাট জাগ দিতেও কোনো ঝামেলা হয়নি। এবার নদী-জলাশয়ে অনেক পানি। পাটের দামটা শেষ পর্যন্ত এভাবে থাকলে কৃষকেরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
বেলগাছি গ্রামের পাটচাষি হাসমত আলী বলেন, এবার পাট কাটছি। পাটে ভালো ফলন হয়েছে। পাটের দামও ভালো। বাজারদর এ রকম থাকলে আগামীতে পাটের চাষাবাদ আরও বাড়তে পারে।
আরেক কৃষক আসাদুল হক বলেন, পাট চাষে এবার আমরা বেশ খুশি। জমিতে পাটের গাছ ভালো হয়েছে, ফলনও আশানুরূপ।
সরকার যদি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে, তাহলে আগামীতে কৃষকেরা আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় পাটের আবাদ বেড়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ পাট কাটা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পাট পচানোর জন্য যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত রয়েছে। এবার পাটের দামও বেশি। পাটের উৎপাদন ও ফলনে কৃষক এবারও হাসবেন বলে আশা করছি। পাটের আবাদ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের আশা, উৎপাদন ও বাজারদর ভালো থাকলে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে। আর কৃষকেরা বলছেন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সোনালি আঁশের হাত ধরে আগামী মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার মাঠে পাটের আবাদ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলী কদর পলাশ,, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ব্যারিস্টার তানভীর হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আশরাফুল আলম চঞ্চল, সম্পাদক ও প্রকাশক আলী কদর পলাশ কর্তৃক আলিফ প্রিন্টিং প্রেস ২২১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত। কর্পোরেট অফিস: হাউস নম্বর ১৭, রোড নং ২৮, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯। ই-মেইলঃ dailyeiamardesh@gmail.com মোবাইল- +৮৮-০১৭৫৮২৮২৩৪৫
Copyright © 2026 Ei Amar Desh । এই আমার দেশ. All rights reserved.