৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeশিক্ষামাদক-বাল্যবিয়ে রোধে আলমডাঙ্গায় অভিভাবককে শুভেচ্ছাপত্র দিলেন ছাত্রদল নেতা

মাদক-বাল্যবিয়ে রোধে আলমডাঙ্গায় অভিভাবককে শুভেচ্ছাপত্র দিলেন ছাত্রদল নেতা




নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদক ও বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার অভিভাবককে সচেতনতামূলক শুভেচ্ছাপত্র দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব শুভেচ্ছাপত্র অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। গতকাল রবিবার সকাল ৭টায় মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেয়ার কাজ করেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
আয়োজকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ ও ৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৯ হাজারের বেশি অভিভাবকের কাছে মাদকবিরোধী ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কর্মসূচির শুরুতে মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেল, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসনাত রিংকু, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক তন্ময়, নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হক, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজল রহমান, সহকারী শিক্ষক মাছিদুল ইসলামসহ শিক্ষক ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
পরে জেলা, উপজেলা, পৌর, কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সচেতনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ছাত্রদল নেতারা বলেন, একটি শিক্ষার্থী মাদকের সংস্পর্শে এলে শুধু তার শিক্ষাজীবন নয়, পুরো পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে বাল্যবিবাহ একটি কিশোরীর শিক্ষাজীবন, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে সমাজের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবারকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আয়োজকেরা জানান, শুধু এক দিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতেও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগেই মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with