নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ইটভাঙা মেশিনের আড়ালে ফেনসিডিল পাচারের মামলায় দুই ব্যক্তিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার অপর এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা শ্যামপুর গ্রামের আবু সিদ্দিকের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩১) ও একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৪)। মামলার অপর আসামি সদর উপজেলার দীননাথপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আশিককে খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা সদর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট নবাব আলী সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের বোয়ালমারী মাঠ এলাকায় ট্রাফিক চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়াগামী তিন চাকার একটি ইঞ্জিনচালিত কমলা রঙের গাড়ি চেকপোস্টের সামনে আসে। গাড়িটিতে ইটভাঙার মেশিন ছিল। পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে সেটিতে থাকা তিন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও একজন পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ইটভাঙার মেশিনের ভেতর থেকে দুটি বস্তায় রাখা ২২৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ফেনসিডিলের পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৮ লিটার। জব্দ করা ফেনসিডিলের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ফেনসিডিল বহনে ব্যবহৃত তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত ইটভাঙা মেশিনটির আনুমানিক মূল্য ছিল ৩ লাখ টাকা। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ফেনসিডিলের একটি বোতল পরীক্ষার জন্য আলাদা করে নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। বাকি ফেনসিডিলও নিয়ম অনুযায়ী জব্দ ও সিলগালা করা হয়।
এরপর তদন্ত শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও সাব্বির হোসেন ও আশিককে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ৬জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতে আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও সাব্বির হোসেন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলায় দণ্ডিত আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাব্বির হোসেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ)/৪১ ধারায় অপরাধ করেছেন। এ অপরাধে তাদের প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে জব্দ করা নমুনা ফেনসিডিল রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী তা ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে। মামলায় জব্দ করা তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত ইটভাঙা মেশিনটি জিম্মায় দেয়ার আগের আদেশও স্থায়ী করেছেন আদালত। আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মামলার রায় ঘোষণার আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ যাবে। একই সঙ্গে তাদের সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলী কদর পলাশ,, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ব্যারিস্টার তানভীর হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আশরাফুল আলম চঞ্চল, সম্পাদক ও প্রকাশক আলী কদর পলাশ কর্তৃক আলিফ প্রিন্টিং প্রেস ২২১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত। কর্পোরেট অফিস: হাউস নম্বর ১৭, রোড নং ২৮, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯। ই-মেইলঃ dailyeiamardesh@gmail.com মোবাইল- +৮৮-০১৭৫৮২৮২৩৪৫
Copyright © 2026 Ei Amar Desh । এই আমার দেশ. All rights reserved.