৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeশিক্ষাকেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত 




দর্শনা অফিস:

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, আচরণ, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরুজ ট্রেনিং সেন্টারে কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেরুজ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ওমর ফারুক গালিব, শিক্ষক প্রেমময় বষাক নান্টু ও ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক রাসেল আহমেদ শাওন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাব্বিক হাসান বলেন, আপনার সন্তানের গতিবিধির ওপর নজর রাখবেন। সে সমাজের কোন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করছে, নিয়মিত বিদ্যালয়ে ও শ্রেণিকক্ষে যাচ্ছে কি না এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড’ এই চিরন্তন সত্যের অর্থ শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল বা সার্টিফিকেট অর্জন নয়। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন সুশিক্ষাই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে। কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন জাতি গঠনে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। রাব্বিক হাসান আরও বলেন, সন্তানেরা শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে জ্ঞান ও শিক্ষা দিয়ে তাদের গড়ে তোলেন, আর অভিভাবকেরা ঘরে স্নেহ, শাসন ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেন। শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই সমন্বিত ভূমিকার মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। প্রতিদিন সন্তান বিদ্যালয়ে কেমন করছে, কার সঙ্গে মিশছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে এসব বিষয়েও আমাদের সচেতন হতে হবে।
বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক থেকে সন্তানদের দূরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানান। রাব্বিক হাসান অভিভাবক ও শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভুল বা ত্রুটি খোঁজার পরিবর্তে তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। বিদ্যালয় ও পরিবার একসঙ্গে কাজ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথিরা বলেন, এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ না দিয়ে নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনার অগ্রগতি ও আচরণের বিষয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। আলোচনা পর্বে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এসএম কবির, মনিরা জামান, শাহীন বাবু ও মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন। তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আরও কার্যকর যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অভিভাবক সমাবেশে বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য কেবল পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার মতো গুণাবলিই তাকে প্রকৃত অর্থে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with