৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
spot_img
HomeUncategorizedপ্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও দামুড়হুদায় বাল্যবিয়ে অভিযোগ

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও দামুড়হুদায় বাল্যবিয়ে অভিযোগ




দামুড়হুদা অফিস:

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের বারুইপাড়ায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে একই উপজেলার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে গোপনে বিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে তাকে স্বামীর বাড়িতে তুলে নেয়া হয়। গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পেয়ে এর আগে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিয়ে বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুগডুগি গ্রামের কাউন্সিলপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে (ছদ্মনাম রিনা) লোকনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২৩ মে ২০১১। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই কিশোরী কথিত প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে জয়রামপুর গ্রামের বারুইপাড়ার বাবুর ছেলে মাসুদ রানার বাড়িতে চলে আসে। সেখানে যাওয়ার পর কিশোরটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবার এবং হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মিনিকে বিয়ে বন্ধ রাখার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়।
ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মিনি জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওই কিশোরীকে নিজের হেফাজতে নেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে তার বাবার হাতে তুলে দেন এবং মেয়েটির বিয়ে না দেয়ার জন্য পরিবারকে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও পরিবারকে সচেতন করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও দুই পরিবারের সম্মতিতে গতকাল শুক্রবার গোপনে ওই কিশোরীর বিয়ে দেয়া হয়। তাদের দাবি, লোকচক্ষুর আড়ালে রাতের আঁধারে ইমাম বা কাজির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে কিশোরীকে জয়রামপুরের ওই বাড়িতে তুলে নেয়া হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পরও যদি বাল্যবিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করার পাশাপাশি প্রচলিত আইনেরও লঙ্ঘন। তারা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মিনি বলেন, প্রশাসন থেকে বাল্যবিবাহ না দেয়ার জন্য আমাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মেয়েটিকে তার বাবার হাতে তুলে দিই। এর প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছেও আছে। এরপর দুই পক্ষ এক হয়ে বাল্যবিবাহ দিয়েছে এটা আমার জানা ছিল না। আইনের লঙ্ঘন করে যারা এই কাজ করেছে, তারা অন্যায় করেছে। যারা বাল্যবিবাহ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের বিয়ে সম্পন্ন, সহায়তা বা নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আইন থাকার পরও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এমন ঘটনা ঘটলে তা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with