দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় ঘাসের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের পর প্রায় ৫০০ দেশীয় পাখি মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষমিশ্রিত ধান ও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত পোকামাকড় খেয়ে পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জমির মালিকের ছেলেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার কৃষক আতিয়ার রহমান তার ঘাসের জমিতে পোকামাকড় দমনের জন্য বিষ প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে বিষমিশ্রিত কিছু ধান জমিতে ছিটিয়ে রাখা হয়। এরপর ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও বিষমিশ্রিত ধান খেতে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি। শনিবার রাত থেকে রবিবার দিনভর একে একে পাখিগুলো মারা যেতে থাকে। স্থানীয়দের ধারণা, বিষমিশ্রিত ধান ও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত পোকামাকড় খাওয়ার কারণেই পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে। জমির আশপাশে বিপুলসংখ্যক মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গতকাল রবিবার রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে যান দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জমির মালিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জমির মালিক আতিয়ার রহমানের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। রাজন জানান, মাঠে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের জন্য তার বাবা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছিলেন। পাশাপাশি বিষমিশ্রিত কিছু ধান জমিতে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ধান ও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত পোকামাকড় খেয়ে পাখিগুলো মারা যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশে শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পাখিসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা ও ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিষমিশ্রিত খাবার খোলা অবস্থায় জমিতে ছড়িয়ে রাখা হলে পাখি ও অন্যান্য প্রাণী তা খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি কীটনাশকের ভুল ব্যবহার মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তফসিলভুক্ত বন্যপ্রাণী ও পাখি হত্যা বা নিধন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘটনার ধরন ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের সুযোগ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলী কদর পলাশ,, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ব্যারিস্টার তানভীর হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আশরাফুল আলম চঞ্চল, সম্পাদক ও প্রকাশক আলী কদর পলাশ কর্তৃক আলিফ প্রিন্টিং প্রেস ২২১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত। কর্পোরেট অফিস: হাউস নম্বর ১৭, রোড নং ২৮, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯। ই-মেইলঃ dailyeiamardesh@gmail.com মোবাইল- +৮৮-০১৭৫৮২৮২৩৪৫
Copyright © 2026 Ei Amar Desh । এই আমার দেশ. All rights reserved.