৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকপশ্চিমবঙ্গে হোটেলে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৬

পশ্চিমবঙ্গে হোটেলে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৬




আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের সামনে ‘বিদেশীনি’ নামের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ছ’জন পুণ্যার্থীর। সনতান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরের অবস্থান তারাপীঠ শহরে। শ্রাবণ মাসের বিশেষ পূজা উপলক্ষে তারাপীঠে গিয়েছিলেন নিহত এই পূণ্যার্থীরা। সোমবার সকালে হোটেলের এক তলায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থান হোটেল বিদেশিনীর। পাঁচতলা ওই হোটেল ভবনের নীচে সোমবার ভোরের দিকে আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুন লাগার পর দ্রুত তা হোটেলের বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। অতিথিদের অধিকাংশই সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন এবং তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।

আগুনের ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে গিয়েছিল। অতিথি এবং হোটেলের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ভাল করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। এতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

হোটেলটি থানার সামনে হওয়ায় পুলিশ পৌঁছোতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।কিন্তু হোটেলের নীচতলার বিস্তীর্ণ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। আবাসিকদের কেউ কেউ আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ায়। জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুণ্যার্থীদের আতঙ্ক কাটছে না।

কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল? হোটেল সূত্রে জানা গেছে , ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি (মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার) হঠাৎ ফেটে গিয়ে সেখানে আগুন ধরে যায়। ওই হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, “আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন; কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যেসব জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায় এবং বাড়তে থাকে। দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিবিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। আতঙ্কে ঘর থেকে অতিথিরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। বাইরে বের হয়ে তাদের অনেকেই আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। সে সময়ে অনেকে দগ্ধ হন।”

সূত্র : আনন্দবাজার, পিটিআই

এসএমডব্লিউ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with