খাসখবর ডেস্কঃ
আজ ১৯ জুলাই, ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি বিষণ্ণ দিন, কারণ আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও, তিনি আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টি আর অগণিত ভক্তের হৃদয়ের গভীরে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ ছিলেন সাহিত্যনুরাগী এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমন এক সৃজনশীল পরিবার থেকে উঠে আসা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেই ছিল শব্দের জাদুকরী ক্ষমতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করলেও, মানুষের জীবনের হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ আর রহস্যের জগৎ তাঁকে বেশি টেনেছিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে নিজেকে সঁপে দেন লেখালেখি আর নির্মাণের জগতে।
১৯৭২ সালে ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যজগতে ঝড় তোলেন তিনি। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’-এর মতো কালজয়ী সব উপন্যাস উপহার দিয়ে তিনি পাঠকের মনে স্থায়ী আসন করে নেন। তাঁর সৃষ্টি হিমু, মিসির আলী, শুভ্র বা রূপার মতো চরিত্রগুলো কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা যেন রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মিশে গেছে। হিমু শিখিয়েছে মুক্তভাবে বাঁচতে, মিসির আলী শিখিয়েছে যুক্তির চোখে রহস্যকে দেখতে, আর শুভ্র শিখিয়েছে সৌন্দর্যবোধের পবিত্রতা।
কেবল সাহিত্য নয়, টেলিভিশনের পর্দায়ও তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, প্রতিটি নাটক হয়ে উঠেছিল বাঙালির সামাজিক জীবনের একেকটি দলিল। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি বা রূপার জন্য হিমুর আকুলতা আজও মানুষের মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে। একইভাবে, চলচ্চিত্রেও ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’ কিংবা ‘ঘেটুপুত্র কমলা’-এর মতো নির্মাণের মধ্য দিয়ে তিনি রেখে গেছেন তাঁর নিজস্ব গল্পের স্বাক্ষর।
তিনি বলতেন, ‘লোকজন আগ্রহ নিয়ে আমার বই পড়ছে, এটাই আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি।’ তাঁর এই সহজ স্বীকারোক্তিই ছিল সেরা পুরস্কার। হুমায়ূন আহমেদ শুধু বই লেখেননি, তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করেছিলেন। আজ যখন বর্ষার দিনে জানালার পাশে বসে কোনো তরুণ প্রথমবার হিমুর কথা ভাবে, কিংবা মেঘলা বিকেলে কেউ গুনগুন করে গেয়ে ওঠে— ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়’, তখনই মনে হয়, তিনি তো কোথাও যাননি। তিনি আছেন আমাদের চারপাশে, আমাদের প্রতিটি ভালো লাগা ও অনুভূতির মাঝে।
১৪ বছর আগের এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও, তাঁর সৃষ্টি আজও প্রতিদিন নতুন পাঠকের হাতে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে। বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, হুমায়ূন আহমেদ ততদিন অমর হয়ে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীসহ দেশজুড়ে ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন তাঁদের প্রিয় লেখককে, যিনি জীবনের সব রঙকে কলমের কালিতে বেঁধে চিরকাল বাঁচিয়ে রেখেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলী কদর পলাশ,, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ব্যারিস্টার তানভীর হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আশরাফুল আলম চঞ্চল, সম্পাদক ও প্রকাশক আলী কদর পলাশ কর্তৃক আলিফ প্রিন্টিং প্রেস ২২১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত। কর্পোরেট অফিস: হাউস নম্বর ১৭, রোড নং ২৮, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯। ই-মেইলঃ dailyeiamardesh@gmail.com মোবাইল- +৮৮-০১৭৫৮২৮২৩৪৫
Copyright © 2026 Ei Amar Desh । এই আমার দেশ. All rights reserved.