৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
spot_img
HomeUncategorizedএকই ছাদের নিচে তিন রোগীর লড়াই, অর্থের কাছে থমকে গেছে চিকিৎসা

একই ছাদের নিচে তিন রোগীর লড়াই, অর্থের কাছে থমকে গেছে চিকিৎসা




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের একটি পরিবার যেন একসঙ্গে তিনটি দুরারোগ্য রোগের সঙ্গে লড়াই করছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফরজ আলীর (৩৭) দুই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। তার দুই সন্তানও আক্রান্ত থ্যালাসেমিয়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও সন্তানের নিয়মিত রক্ত দেয়ার খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারের যা কিছু ছিল, একে একে সবই বিক্রি করতে হয়েছে। এখন অর্থের অভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।

ফরজ আলী পেশায় শ্রমিক। একসময় দিনমজুরির কাজ করে কোনোভাবে সংসারের খরচ চালাতেন। কিন্তু প্রায় চার বছর ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার জটিলতায় ভুগছেন তিনি। রোগ ধরা পড়ার পর সুস্থ হওয়ার আশায় নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ যা কিছু সম্পদ ছিল, তা-ও বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারটিকে। এরই মধ্যে সামনে আসে আরও বড় দুশ্চিন্তা। ফরজ আলীর দুই সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। তাদের নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। একদিকে বাবার কিডনি রোগের চিকিৎসা, অন্যদিকে দুই সন্তানের রক্ত ও চিকিৎসার খরচ সব মিলিয়ে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অসহনীয় আর্থিক চাপ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফরজ আলীর স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আর কতদিন এভাবে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে চলব? যা কিছু ছিল, সব বিক্রি করে চিকিৎসা করেছি। এখন আর পারছি না। সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো যদি আমাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো স্বামী ও সন্তানদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরজ আলী একসময় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন তিনি আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ চিকিৎসার ব্যয় কমেনি, বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। একই বাড়িতে তিনজন দুরারোগ্য রোগীর বসবাস একজনের দুই কিডনি নষ্ট, দুই সন্তানের থ্যালাসেমিয়া। প্রতিদিনের জীবন তাদের কাছে যেন বেঁচে থাকার এক কঠিন পরীক্ষা। অর্থের অভাবে সেই লড়াইও এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম।

স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হলে এই পরিবারের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। ফরজ আলী ও তার দুই সন্তানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী এবং হৃদয়বান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো এই পরিবারের তিনটি জীবন আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with