৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeবীমা সংবাদরাজশাহী থেকে দর্শনার শিক্ষার্থী উদ্ধার, দু’জন আটক

রাজশাহী থেকে দর্শনার শিক্ষার্থী উদ্ধার, দু’জন আটক




দর্শনা অফিস:

দর্শনায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পরদিন ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় তার হাত-পা বাঁধা ও মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো কয়েকটি ছবি। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ বছর বয়সী নাইম উদ্দিনকে। একই অভিযানে রাজশাহীর পৃথক দুটি এলাকার দুই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ও আটক দুজনকে নিয়ে পুলিশের দল ইতোমধ্যে দর্শনা থানায় ফিরেছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নাইম উদ্দিন দর্শনার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আব্দুল আলীমের ছেলে। সে মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটক দুজন হলেন রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার রুবেল (৩৭) এবং রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার এলাকার সুমন (৩৫)।
পরিবার ও থানায় করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার পাশে খেলতে বের হয় নাইম। এরপর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও খোঁজ নেয়া হয়। কোথাও নাইমের সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা আব্দুল আলীম দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৯৯০। এমতাবস্থায় ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে নাইমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার বড় ভাই মাসুদের মোবাইল ফোনে কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, ছবিগুলোতে নাইমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ছবি পাঠানোর পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে নাইমকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে নাইমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশকে জানান। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় থানায় এজাহার দেয়া হলে পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, ২২ আগস্ট প্রতাপপুর এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় জিডি করেন। পরদিন সকালে নাইমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেয়া হয়। এরপর দ্রুত মামলা রুজু করে শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। ওসি বলেন, মামলার পর দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহীতে যায়। সেখানে রাজশাহী র‌্যাবের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে নাইমকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে রুবেল ও সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের দর্শনা থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নজরুল ইসলাম বলেন, নাইমকে কোথা থেকে অপহরণ করে রাজশাহীতে নেয়া হয়েছিল, তাকে কোথায় রাখা হয়েছিল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আটক দুজনের ভূমিকা কী এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with