৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
spot_img
Homeলাইফস্টাইলপেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না- এমন লক্ষণ কেন হয়?

পেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না- এমন লক্ষণ কেন হয়?




লাইফস্টাইল ডেস্ক:
ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যা কমবেশি অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু কোনো নাম বা পরিচিত শব্দ যখন কিছুতেই মনে পড়ে না, তখন অনেকেই বলে থাকেন— কথাটি ঠিক পেটে আসছে, কিন্তু মুখে আসছে না। পরিচিত শব্দ হঠাৎ করে ভুলে যাওয়ার এই সমস্যা কি একেবারেই সাধারণ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো স্নায়বিক সমস্যা? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শত চেষ্টার পরেও যখন মুখস্থ বা পরিচিত কোনো নাম মনে করা যায় না, তখন চরম বিরক্তি লাগে। কথা বলার সময়ে অতিপরিচিত কোনো শব্দ হঠাৎ মনে না পড়ার সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটলে ভয়ের কিছু নেই। তবে সমস্যাটি যদি লাগাতার হতে থাকে এবং চেনা নাম বা পরিচিত শব্দও বলার ঠিক আগের মুহূর্তে বারবার ভুলে যেতে থাকেন, তবে তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। ক্ষণিকের জন্য স্মৃতিভ্রম অনেকেরই হতে পারে, কিন্তু তা যদি দিন দিন বাড়তে থাকে, তবে তা কোনো বড় স্নায়বিক রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
হঠাৎ করে নাম ভুলে যাওয়া বা পরিচিত শব্দ মস্তিষ্ক থেকে একদম উধাও হয়ে যাওয়ার মতো এই সমস্যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিপ অফ দ্য টাং’ (Tip of the Tongue)। এটি নতুন কোনো রোগ নয়, বরং স্মৃতিভ্রমের বা ভুলে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট অংশ। এর মানে এই নয় যে শব্দটি বা নামটি আপনার মস্তিষ্ক থেকে চিরতরে মুছে গেছে; বরং সেটি মনে করার যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সেখানে কোনো কারণে বাধা তৈরি হচ্ছে।
আমাদের মস্তিষ্কের স্মৃতি জমা রাখার প্রধান কুঠুরিটির নাম হিপ্পোক্যাম্পাস। এখানেই যাবতীয় স্মৃতি জমা থাকে এবং এই অংশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকে ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী অংশের। কোনো কারণে এই দুই অংশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই গোলমাল শুরু হয়। ধরা যাক, কোনো নাম বা পরিচিত শব্দ যা আপনি আগেই জানেন, তা বলতে যাবেন; ঠিক সেই মুহূর্তে স্মৃতির কুঠুরি থেকে সেই শব্দটি সংযোগ পথের মাধ্যমে ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী অংশে এসে পৌঁছাতে পারে না। ফলে স্মৃতির সংকেত ভাষায় রূপান্তরিত হয় না এবং তা উচ্চারণ করাও সম্ভব হয় না। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নামের সঙ্গে জড়িত বিষয়, কোনো স্থান বা ব্যক্তির চেহারা মনে করতে পারলেও তা ঠিকমতো গুছিয়ে মুখে প্রকাশ করতে পারেন না।
টিপ অব দ্য টাং’ বা মাঝেমধ্যে শব্দ ভুলে যাওয়ার সমস্যাটি মূলত সাধারণ। কিন্তু এই ধরনের ভুলে যাওয়া যদি লাগাতার চলতে থাকে, তবে তা স্মৃতিনাশের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিভ্রান্তি এবং অপর্যাপ্ত বা কম ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর সংকেত আদান-প্রদানের ক্ষমতা দারুণভাবে কমে যায়। ফলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
এছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদী মদ্যপানের কারণেও সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে। এই ধরনের সমস্যার একটি বড় লক্ষণ হলো, রোগী হয়তো দুই-তিন দিন আগের অতি গুরুত্বপূর্ণ কথাও সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন। নিয়ম না মেনে মুঠো মুঠো ঘুমের ওষুধ খাওয়াও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার শরীরের থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি হলেও এমন হতে পারে। যদি দেখা যায় শুধু শব্দ বা নাম নয়, বরং নিজের ঠিকানা এবং অতি পরিচিত মানুষজন বা আত্মীয়দের মুখও রোগী ক্রমান্বয়ে ভুলতে বসেছেন, তবে আর কালক্ষেপণ করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। কারণ, এই লক্ষণগুলো অনেক সময় ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Share with